একটি আত্মঘাতীমূলক সিদ্ধান্ত !!!

সরকার জাতীয় সড়কে টোল বা ট্যাক্স তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে . যা যথারীতি মানুষের মরার উপর খাড়ার ঘা হিসেবে পরিগণিত হবে .

এটি একটি আত্মঘাতীমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে আমার কাছে প্রতীয়মান হয়েছে .

এই সিদ্ধান্তে প্রমাণিত হচ্ছে সরকারের কোষাগারে অর্থের টানাপোড়েন চলছে . বিভিন্ন সংস্থা থেকে অর্জিত অর্জিত অর্থ কোথায় গেলো তাহলে ??

যেখানে উন্নত রাষ্ট্রগুলোতে হাইওয়েতে টোল প্রথা উঠে যাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশে এই প্রথা চালু করা মানে দেশ আরো ২০ বছর পিছিয়ে যাওয়া . বাংলাদেশের ট্যাক্স খাতে মোটর ভেহিক্যাল সেক্টর থেকে পৃথিবীর সবচে বেশি অর্থ উপার্জিত হয় .

এর কয়েকটি প্রমান ও নমুনা দিচ্ছি .

একমাত্র বাংলাদেশে আমদানিকৃত গাড়ির উপর ৩০০ থেকে ৪০০ শতাংশ ট্যাক্স বসানো হয়. উদাহরণ : আমরা যে প্রাইভেট গাড়িগুলো রাস্তায় দেখি. বেশিভাগ জাপান থেকে আমদানি করা ব্যক্তিগত গাড়ি . এগুলোর মূলত জাপানে যে দর প্রদান করতে হয় তা বাংলাদেশী টাকায় সর্বচ্চো ৭ থেকে ৮ লাখ টাকায় ক্রয় করা হয় .

সেই গাড়িটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চালানোর জন্য অনুমতি ও নাম্বার প্লেট লাগাতে গুনতে হয় কমপক্ষে চার গুন্ বেশি টাকা . যা প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা . ৮ লক্ষ টাকার গাড়ি বাংলাদেশে চালাতে আরো ২২ লক্ষ টাকা বেশি দিতে হয় . এই ২২ লক্ষ টাকা সরাসরি সরকারের কোষাগারে যায় .

মানুষ এতগুলো টাকা বেশি দিচ্ছে কেন ??
সরকার এই টাকা দিয়ে কি করে ??

পৃথিবীর উন্নত দেশে যেমন , আমেরিকা ও কানাডাতে বাৎসরিক রেজিস্ট্রেশন নবায়ন ও অন্যান্য কাগজপত্র নবায়ন করতে সর্বোচ্চ ১৫০ থেকে ২০০ ডলার খরচ হয় ( বিডিটি ১০ থেকে ১৪ হাজার ).

বাংলাদেশে প্রতিটি প্রাইভেট গাড়ির মালিকগণ প্রতি বছর ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে এক বছর চালানোর অনুমতি পান .

লক্ষ লক্ষ গাড়ি থেকে এই বাবদ আদায়কৃত অর্থ কোথায় যায় ??

এইসব অর্থ নেয়া হয় সড়কে নিরাপত্তা, সেবা ও রাস্তা ব্যবহারের জন্য .

এর পরেও কেন মানুষকে সড়কে ট্যাক্স এর নামে বর্ধিত অর্থ প্রদান করতে হবে ?

এতভাবে মানুষের পকেট থেকে টাকা নেয়ার মানে সরাসরি ডাকাতি ছাড়া আর কিছু নয় .

সত্বর এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসুন . নইলে এর প্রভাব প্রতিটি সাধারণ মানুষের উপর পড়বে .

যেমন :

* সড়কে টোলের নামে পণ্যবাহী ট্রাকগুলো অধিক ভাড়া চাইবে . অধিক ভাড়ার কারণে পণ্যের মূল্য অনেক গুনে বেড়ে যাবে .

* যাত্রীবাহী বাসগুলোর ভাড়া বেড়ে যাবে হুড়হুড় করে.

এর ফলে প্রতিটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে আরেকটি বড়ো অর্থনৈতিক সংকটের সম্মুখীন হতে হবে যা পুরো অর্থনীতির উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে বলে স্পষ্ট প্রতীয়মান .

সাইফুর সাগর
সাংবাদিক

শেয়ার করুন এখান থেকে