সিরিয়ায় আইএসের দখলকৃত ৯৯.৫ ভাগ ভূখণ্ড উদ্ধার করা হয়েছে: যুক্তরাষ্ট্র

বিদেশ ডেস্ক : সিরিয়ায় আইএসের দখলকৃত ৯৯ দশমিক ৫ ভাগ ভূখণ্ড জঙ্গিদের কবল থেকে উদ্ধার করে দেশটির জনগণের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার পেন্টাগনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এমন দাবি করেন যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্যাট্রিক শানাহান। তিনি বলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শতভাগ ভূখণ্ডই উদ্ধার করা হবে।

প্যাট্রিক শানাহান বলেন, জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস এখন আর সিরিয়ায় শাসনকাজ পরিচালনা করছে না। তারা দেশটিতে আর কোনও বড় শক্তি নয়। তাদের আর্থিক সক্ষমতাও কমে গেছে।

এদিকে সিরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া নিরাপদ রাখতে দেশটিতে নতুন করে আরও অর্ধসহস্রাধিক সেনাসদস্য পাঠিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানিয়েছে, এসব সেনারা সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় অবস্থিত মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে অবতরণ করেছে।

নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের ফলে নিরাপদ সেনা প্রত্যাহার নিশ্চিতে সিরিয়ায় ঠিক কতজন বাড়তি সেনাসদস্য পাঠানো হয়েছে তা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের একজন কর্মকর্তা।

অন্যদিকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি প্রত্যাহারের পর সিরিয়ার কুর্দি নিয়ন্ত্রিত মানবিজের নিরাপত্তার দায়িত্ব তুরস্ক প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। ট্রাম্পের সঙ্গে এক ফোনালাপে এরদোয়ান তার দেশের এ প্রস্তুতির কথা জানান।

২০১৮ সালের ১৯ ডিসেম্বর ট্রাম্প ঘোষণা দেন সিরিয়া থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের। ২০১৬ সালে আইএসের কাছ থেকে মানবিজ দখল করে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠী সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)। এই জোটে রয়েছে মার্কিন সমর্থিত কুর্দিশ ওয়াইপিজি। তুরস্ক ওয়াইপিজিকে নিষিদ্ধ ঘোষিত কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) শাখা সংগঠন মনে করে। পিকেকে কয়েক দশক ধরে স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।

এরদোয়ান ট্রাম্পকে বলেন, মানবিজে আত্মঘাতী হামলাটি সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার জন্য চালানো হয়েছে।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সেফ জোন গড়ে তোলতে উভয় দেশের চিফ অব স্টাফের মধ্যকার আলোচনাকে গতিশীল করা হবে।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, উভয় নেতা উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় নিজ নিজ দেশের নিরাপত্তার প্রয়োজনে সমঝোতা চালিয়ে যেতে একমত হয়েছেন। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, আল জাজিরা।

শেয়ার করুন এখান থেকে